অবৈধ মোবাইল বৈধ করার উপায়

0

অবৈধ মোবাইল বৈধ করার উপায়

শিরোনামটি দেখে অনেকের মনে হতে পারে মোবাইলের বৈধতা বা অবৈধতা আবার কি? সব মোবাইল ব্যবহারই তো বৈধ! তবে ব্যাপারটা সর্বোপরি ভুল। বিশেষ করে বাংলাদেশে করা নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই। অবৈধ মোবাইল বন্ধ করার ফলে বিপাকে পড়তে পারেন অনেকেই। সুতরাং সময় শেষ হবার আগেই পূর্বের অবৈধ মোবাইলটিকে বৈধ করে ফেলা আবশ্যক। তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এর টেকনিক সম্পর্কে না জানা। তাই আজকে আমরা চেষ্টা করবো অবৈধ মোবাইল বৈধ করার উপায় বিস্তারিত জানার।

অবৈধ মোবাইল বন্ধ

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) এর ব্যবস্থাপনায় অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এক্ষেত্রে দেশবাসীর উচিত মোবাইল সেট কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। এক গবেষণার ভিত্তিতে জানা গেছে দেশে প্রায় তিন কোটি অবৈধ হ্যান্ডসেট মানুষের হাতে রয়েছে। যা সরানোর কাজ করছে কতৃপক্ষ।

এক্ষেত্রে অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোন আর সচল করা যাবে না। অবৈধ হ্যান্ডসেটকে প্রাথমিকভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হলে প্রথমদিকে নির্দিষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর একই কারণে কোনো সিমই কাজ করবে না। কতৃপক্ষ জানিয়েছেন এই পলিসিটিতে শুধুমাত্র গ্রাহককে নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করানোর উদ্দেশ্যে বাধ্য করার জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: কিভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করা যায়

এই পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি হলো নকল মোবাইল সেট বৈধের সুযোগ, অবৈধ আমদানি, চুরি, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাজস্ব ক্ষতি ঠেকানোর ব্যাপার তো থাকছেই। উক্ত আইন বা কার্যক্রমে বিদেশ থেকে ক্রয় করা হ্যান্ডসেটের বিষয়ে যা করতে হবে তা হলো, কতৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দলিলাদি ( ক্রয় রশিদ বা অন্যান্য) দেখিয়ে তা বৈধ করা।

এনইআইআর পরিচালনা পদ্ধতিতে কতৃপক্ষ উক্ত সুবিধা রেখেছেন। পাশাপাশি মানুষ বিদেশ থেকে কিনে বা উপহার হিসেবে অথবা উপহার দিতে মোবাইল ফোন আনতে পারলেও বেশি পরিমাণে আনা হলো সরকারকে কর দিতে হবে। ধারনা করা হয় উক্ত কার্যক্রমটি রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা পালন করবে।

অবৈধ মোবাইল চেনার উপায়

আপনি চাইলে ঘরে বসেই আপনার হাতে থাকা মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে পারেন। খুব সহজ পদ্ধতি এটি। প্রথমে আপনাকে মোবাইল হ্যান্ডসেটে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করতে হবে। স্ক্রিনে থাকা Status Check অপশনে সিলেক্ট করতে হবে। অটোমেটিক আসা বক্সে মোবাইল হ্যান্ডসেটের ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখে পাঠাতে হবে।

পরবর্তীতে গ্রাহকের মোবাইলে হ্যাঁ/না অপশন সংবলিত একটি অটোমেটিক বক্স আসলে তাতে হ্যাঁ Select করে নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক সময়ে ফিরতি মেসেজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বা হ্যান্ডসেটের হালনাগাদ অবস্থা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে আপনি চাইলে neir.btrc.gov.bd ওয়েব লিংকে গিয়ে বিদ্যমান সিটিজেন পোর্টাল এবং মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও উক্ত সেবা পেতে পারেন।

অবৈধ মোবাইল বৈধ করার উপায়

বৈধতা যাচাই করার পর কোনো সেট বৈধ দেখানো মানেই সেটা নিবন্ধিত। তবে ম্যাসেজের মাধ্যমে সেট অবৈধ জানা গেলে তা গ্রাহককে নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হবে। আপনি চাইলে এই তিন মাস স্বাভাবিকভাবেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন। মূলত ওই সময়ের মধ্যেই গ্রাহক তার ক্রয় রশিদ বা অন্যান্য কাগজপত্র দেখিয়ে মোবাইল ফোনটি বৈধ হিসেবে নিবন্ধন করে নিতে পারে।

মোবাইল ফোন নিবন্ধন পদ্ধতি

  • হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য neir.btrc.gov.bd তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
  • ওয়েবসাইট থাকা Special Registration সেকশনে গিয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরটি দিতে হবে। 
  • ছবি/স্ক্যান কপি (যেমন পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশনের তথ্য, ক্রয় রসিদ ইত্যাদি) আপলোড করতে হবে।
  • সবমিট করতে হবে। 

শেষ কথা: অনেক শখের এবং প্রিয় মোবাইলটি কে বা হারাতে চায়? সাধের ফোনটি যদি অবৈধ ফোনদের কাতারে পড়ে তাহলে দুঃখের একটা বড় অংশ মনে জায়গা করে নিবে। তা হয়তো কেউই চাইবে না। আপনিও তার ব্যতিক্রম নন।

প্রিয় মোবাইলটি যদি কোনো কারণে অবৈধ মোবাইলের কাতারে পড়ে তবে ঘাবড়ে না গিয়ে উপরে উল্লেখ করা অবৈধ মোবাইল বৈধ করার উপায় সম্পর্কিত নিয়মাবলীগুলি ভালোভাবে পড়ুন এবং কাজে লাগান। আশা করি আপনাকে কখনোই হতাশ হতে হবে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.