vlxxviet mms desi xnxx

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

0

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত (উপযুক্ত সময়, যাওয়ার উপায়, দর্শনীয় স্থানসমূহ)

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সৈকত হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেটি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত। পৃথিবীর দীর্ঘতম একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যার দৈর্ঘ্য প্রায় 75 মাইল বা 120 কিলোমিটার। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণীয় কেন্দ্র হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এসে ভিড় জমায়। মূলত আমরা আজকে এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।

এই আর্টিকেলটিতে থাকছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। এছাড়াও আপনি কক্সবাজার যাওয়ার উপায় সম্পর্কে কক্সবাজার ভ্রমনের কিছু সতর্কতা ওর টিপস সম্পর্কে এবং কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান সমূহ সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে জানতে পারবেন। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক। আশা করছি আপনি মনোযোগ এবং ধৈর্য সহকারে পুরো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত আর্টিকেলটি পড়া শেষ করবেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

প্রথমেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসার নাম থেকে কক্সবাজারের নামটি এসেছে। এর আগে কক্সবাজারের নাম ছিল পালংকি। 1616 সালের ভূগোল সাম্রাজ্যের সময় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ প্রায় বিশাল বড় একটি অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কক্সবাজারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই বিশাল সৈকতটি পুরোটাই বালুকাময় এখানে কাঁদার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বিভিন্ন পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের বিচরণে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। অপরূপ মায়াবী ওরকম হয়ে সমুদ্র সৈকত যে কারো মনে সহজেই জায়গা করে নেয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এখানে এসে ভিড় জমায়।

কক্সবাজার ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কোনটি

এবার চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কক্সবাজার ভ্রমণের উপযুক্ত সময় আসলে কোনটি। মানে কোন সময় গেলে আপনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচাইতে বেশি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এমন একটি সৈকত যেখানে আপনি বছরের যেকোনো সময় ঘুরতে পারবেন। সারাবছরই এর অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায়। তবে সাধারণত মানুষ শীতকালকেই কক্সবাজার ভ্রমনের জন্য বেশি বেছে নিয়ে থাকেন।

সারা বছরে ক্লান্তি দূর করতে মূলত বছরের শেষের দিকেই মানুষ নিজেদেরকে রিফ্রেশ করার জন্য ঘুরতে যাওয়ার উপযুক্ত স্থান হিসেবে কক্সবাজার কে বেছে নেন। তবে প্রকৃতির যেহেতু রূপ বদলায় প্রকৃতি সেই রূপের প্রভাব কিছুটা কক্সবাজারের উপরে উপরে। যেমন গ্রীষ্মকালে গেলে আপনি কক্সবাজারে একরকমের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আবার হেমন্তের এক পূর্ণিমার রাত আপনাকে মুগ্ধ করবে। আবার বর্ষাকালের ঝুম বৃষ্টিতে কক্সবাজার ঘুরে আপনি অন্য রকম এক আনন্দ পাবেন।

 কক্সবাজার যাওয়ার উপায় কি?

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। আপনি যদি লং জার্নি পছন্দ করে থাকেন তাহলে আপনি বাসে অথবা ট্রেনে করে যেতে পারেন। আর আপনি যদি মনে করেন খুব বেশি জার্নি করা পসিবল নয় তাহলে আপনি প্লেনে করে যেতে পারেন। যদিও ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি আপনি কক্সবাজার যেতে পারবেন না ট্রেনে করে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে হবে তারপরষচট্টগ্রাম হতে বাস করে আপনাকে আবার কক্সবাজার যেতে হবে। 

আর আপনি যদি আকাশপথে যান তাহলে আপনি সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজার জেলা করতে পারবেন। এখন সময় এবং বাজেটের ওপর নির্ভর করে কোনটি আপনার জন্য পারফেক্ট তা আপনাকে বাছাই করতে হবে। ট্রেইন বাস কিংবা প্লেন উভয় জায়গাতেই শ্রেণীভেদে সিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। বাসে করে গেলে প্রতি সিটের ভাড়া সর্বনিম্ন 900 টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আবার প্লেনে করে গেলে সর্বনিম্ন ভাড়া 4599 থেকে 12 হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কক্সবাজার ভ্রমনের কিছু সতর্কতা ও টিপস

কক্সবাজার অবশ্যই একটি অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটনকেন্দ্র তবে মনে রাখতে হবে কক্সবাজার ভ্রমণের সময় আপনাকে অবশ্যই কিছু সতর্কতা ও টিপস অবলম্বন করে চলতে হবে। তা না হলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যেহেতু এটি একটি বিশাল বড় পর্যটনকেন্দ্র তাই এখানে অপরাধ ঘটানোর মতো অনেক সিচুয়েশন রয়েছে। তাই আপনাকে আগে থেকেই সতর্ক ব্যবস্থা নিয়ে নিতে হবে।

হোটেলে ওঠার আগে অবশ্যই সেই হোটেল সম্পর্কে আপনার খোঁজখবর নিয়ে নেওয়া উচিত তা না হলে সেখানকার দালালের চক্রে পড়ে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। চলুন তাহলে কক্সবাজার ভ্রমনের কিছু ভ্রমণ টিপস এবং সতর্কতার ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

আরো দেখুনঃ কম খরচে কক্সবাজার হোটেল।

  • কক্সবাজার ভ্রমণের সময় অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান জিনিস সমূহ নিজ দায়িত্বে সেভাবে রাখার চেষ্টা করুন কারণ সেখানে চুরি ছিনতাই এর মতো বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে।
  • বিভিন্ন দালালচক্র কক্সবাজারে আনাগোনা রয়েছে যারা প্রতারণার মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে তাই কোন কিছু কেনা অথবা খাওয়ার আগে দাম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
  • অপরিচিত কোন লোকের সাথে তর্কে জড়ানো থেকে বিরত থাকুন। সেখানে চক্র রয়েছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার সাথে তর্কে জড়াবেন এবং আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে।
  • জনমানব শূন্য কোন স্থানে বেশিক্ষণ না থাকার চেষ্টা করুন। যেখানে বেশি মানুষ রয়েছে সেসব স্থানে যান।
  • যে কোন হোটেলে হুট করেই উঠে পড়বেন না হোটেলে ওঠার আগে অবশ্যই সেই হোটেল সম্পর্কে যে সার্চ করুন এবং সবকিছু সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
  • কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার আগে সেখানে দাম সম্পর্কে জেনে নিন। তা নাহলে খাওয়ার পর দেখবেন এমন সব দাম দিয়ে দিবে যা আপনার কল্পনার বাহিরে।
  •  কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের নাম্বার সব সময় নিজের কাছে রাখুন যেকোনো সমস্যা তাদের সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা নিন।
  •  আর অবশ্যই অবশ্যই সাগরে নামার আগে জোয়ার ভাটা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে নিন সময় মেনে সাগরের নাম। ভুলেও একা একা সাগরে নামার চেষ্টা করবেন না আর আপনি যদি সাঁতার না জেনে থাকেন তাহলে আমি আপনাকে পরামর্শ দিব বেশি দূরে না যাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব কাছ থেকেই সাগরের পানির উপভোগ নিয়ে উপরে উঠে আসুন।
  • সর্বশেষ আমি আপনাকে যে টিপসটি দিব সেটি হল সব টাকা ক্যাসে না নিয়ে যাওয়াই ভাল কিছু টাকা বিকাশ অথবা ব্যাংকে লেনদেন করার ব্যবস্থা রাখুন। যাতে কোনো সমস্যা হলে আপনি সাথে সাথে টাকাটা উঠিয়ে নিতে পারেন।

কক্সবাজারের কিছু দর্শনীয় স্থানসমূহ

বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে পছন্দের  স্থান হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। আর এই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে তুলে। তাই এই কক্সবাজারের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ভ্রমণকারীরা ছুটে যায়। সমুদ্রসৈকতে যতদূর চোখ যায় ততদূর বালুময়। এই সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশকে বিশ্বের পরিচিত হতে অনেকাংশে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের পর্যটকরা কক্সবাজারের ভিড় জমাচ্ছে।

কক্সবাজারের বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সকল দর্শনীয় স্থানসমূহ বিখ্যাত কারণ এসকল স্থানগুলো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মন্ডিত। বাংলাদেশের নাগরিকরা যখন ঘুমের কথা চিন্তা করে সবার আগে কক্সবাজার কথা স্মরণ করে থাকে। কম খরচে নিজের সামর্থ্য অনুসারে কক্সবাজারে দর্শনীয় স্থানগুলো উপভোগ করার সুবর্ণ শুধুমাত্র বাংলাদেশের রয়েছেন।

আরো দেখুনঃ কক্সবাজার হোটেল ভাড়া।

কক্সবাজারে রয়েছে পাহাড়,  সমুদ্র,  ঐতিহ্য স্থাপনা,  নদী,  দ্বীপ, উপকূলীয় প্রকৃতি এবং অসাধারণ দর্শনীয় স্থান। তাই আজ আমরা আপনাদের জন্য কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে জানানোর জন্য হাজির হয়ে গিয়েছে। সেরা কিছু  দর্শনীয় স্থানগুলো আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

সমুদ্র সৈকতের বেশ কয়েকটি বিচ রয়েছে। আর এই বীচ গুলো সকল পর্যটকদের কাছে অনেক প্রিয়।

  • লাবনী বিচ- লাবনী বিচ লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। এই বিচটি পুরাতন বিচ হিসেবে পরিচিত।কক্সবাজার শুরুতে লাবনী বিচ এতটাই কাছে যেয়ে লাবনী বৃষ্টিকে সমুদ্র সৈকত এর প্রধান সমুদ্র সৈকত  বলা হয়ে থাকে।
  • কলাতলী বিচ-  ভাস্কর ডলফিন মোড় অথবা সুগন্ধ সৈকত হতে এই বিচে হেঁটে হেঁটে আসা যায় এবং এই ব্রিজের উপভোগ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে লাবনী এবং সুগন্ধা বিচ এর চেয়ে পর্যটকদের কাছে কলাতলী বিচ এর খরচ তুলনামূলক কম মনে হয়।
  • সুগন্ধা বিচ-  সুগন্ধা পয়েন্টে সুগন্ধা বিচ অবস্থিত। পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। তাছাড়া এই বিচের সার্ফিং উপভোগ করতে পারবেন আপনারা।

শুধুমাত্র যে কক্সবাজারের বিভিন্ন বিচের  সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে তা কিন্তু নয়। এখানে আপনারা ঘোড়ার পিঠে উঠে বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ,প্যারাসাইলিং অথবা ঘুড়ি উড়াতে পারবেন,শপিং করতে পারবেন সাথে বোট চালাতে পারবেন। একসাথে আপনার অনেকগুলো বিনোদন উপভোগ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনারা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন বিচে চেয়ারে বসিয়ে সমুদ্রের সৌন্দর্য এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের হোটেল পাবেন। আপনারা নিজেদের সামর্থ্য এবং সুবিধে অনুসারে এই হোটেলগুলোতে থাকতে পারবেন এবং খাবার উপভোগ করতে পারবেন।

সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে ছোট ছোট অনেক মার্কেট রয়েছে যেখানে সামুদ্রিক  কিছু উপাদান কে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি এবং জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করা হয়। তাছাড়া সমুদ্র সৈকতের শুটকি মাছ, সাথে বিভিন্ন ধরনের আচার এর স্বাদ নিতে পারেন।

আপনারা একঘেয়েমি দূর করতে এবং নিজেদেরকে সতেজ করতে এ ধরনের বিনোদন এবং অবকাশ যাপনের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমন করতে পারেন।

সেন্টমার্টিন দ্বিপ:

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় 9 কিলোমিটার দক্ষিনে রয়েছে আরো একটি সুন্দর প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। এই দ্বীপের আয়তন মাত্র 8 বর্গ কিলোমিটার। ছোট এই দ্বীপটি মায়ানমারের উপকূল হতে 8 কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। এই দ্বীপের আদি নাম ছিল নাযিল জাজিরা জিনজিরা। মূলত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ টি বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত। এই দ্বীপের নির্জন প্রকৃতি মানুষকে মুগ্ধ করে।

একসময় এই দ্বীপে প্রচন্ড পরিমাণের ডাব ও নারিকেল পাওয়া যেত যার স্বাদ ছিল অনন্য। তাই এই দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরা ও বলা হয়ে থাকে। এখনো এই দ্বীপটি নারকেলের জন্য বিখ্যাত। এখানে পাওয়া ডাবগুলো সাধারণ ডাবের চাইতে দুই বা তিন গুণ বড় হয় আবার দাম হয় তুলনামূলক অনেক কম। এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ কাঁকড়া লবস্টার।

হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার হতে 10 কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত।কক্সবাজার হতে যখন হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে যাবেন তখন অনেকগুলো প্রাকৃতিক ঝর্ণা দেখতে পাবেন যা প্রকৃতির সৌন্দর্য আরো অপরূপ করে তোলে। হিমছড়ি যাওয়ার জন্য কক্সবাজার হোটেল মেরিন ড্রাইভ সড়কের আর পাহাড়ের মধ্য দিয়ে প্রাইভেট গাড়ি অথবা জিপে অনায়াসে বেড়ানো যায়।

তাছাড়া কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে সেখানে একটি পিকনিক স্পট তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পিকনিক করতে পারেন।

মেরিন ড্রাইভ রোড:

পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোড আর অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের অপরূপ দৃশ্য। এটি কক্সবাজারের কলাতলী হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এই সড়কটি 80 কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ। বর্তমান বাংলাদেশে এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ রোড। কক্সবাজার ভ্রমনের অন্যতম এবং আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ রোড।

আপনারা চাইলে কক্সবাজারে মূল শহর হতে যে কোন জীপ,  মাইক্রোবাস বা অটোরিকশা ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ রোড ভ্রমণ করে উপভোগ করতে পারেন। কারণ এই বিশাল বিস্তৃত সমুদ্রের নীল জলরাশি, হিমছড়ি সৈকত, ইনানী  সৈকত এবং পালতোলা বোর্ড সাথে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন এবং সেই জনপদের মানুষের জীবন ব্যবস্থা সাথে প্রকৃতির সৌন্দর্য আপনাকে মলিন করে তুলবে।

তাছাড়া মেরিন ড্রাইভ রোড আপনারা বিশ্রাম এবং খাওয়া-দাওয়া করার জন্য চমৎকার সকল রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাবেন। যেখানে বসে আপনারা ক্লান্তি দূর করতে পারবেন এবং মজার মজার খাবার উপভোগ করতে পারবেন। আর এই রোড দিয়ে আপনারা হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত এবং ইনানী সমুদ্র সৈকত যেতে পারবেন।

রামু বৌদ্ধ বিহার:

কক্সবাজারের রামু বৌদ্ধ বিহার বিখ্যাত বৌদ্ধ  কৃষ্টির জন্য। কারণ এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র স্থান। আর রয়েছে সর্বমোট 35 টা মন্দির এবং জাদি।আপনারা যদি বৌদ্ধবিহার এর মূল দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন তাহলে সামনের দিকে আসিস ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাবে ভুবন শান্তি 100 সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি।

তাছাড়া আপনারা রামু বৌদ্ধ বিহারে গেলে দেখতে পাবেন উত্তর মিঠাছড়ি পাহাড় চূড়া। আর সেখানে উঠলে আপনারা দেখতে পাবেন দেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তি যার দৈর্ঘ্য 100 ফুট। কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছে এই স্থানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রার্থনার অন্যরকম এক দর্শনীয় স্থান। 

ইনানী সমুদ্র সৈকত:

কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের অন্যতম এবং আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে ইনানী সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার শহর হতে 25 কিলোমিটার। আর আপনারা যদি হিমছড়ি থেকে ইনানী সমুদ্র সৈকতে যেতে চান তাহলে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে।

ইনানী সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনারা কানারাজা গ্রহ এবং ফইল্লা চাকমার মাচাং ঘর দেখতে পারবেন। কারণ কক্সবাজারের কানারাজা গুহা প্রায় তিনশো বছরের পুরনো। আর লুকিয়ে। এই গ্রহে যেতে ইনানী সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দক্ষিনে যেতে হবে।

আপনারা মেরিন ড্রাইভ রোড হতেই ইনানী সমুদ্র সৈকত যেতে পারবেন এবং সাথে কানারাজা গুহা ঘুরে আসতে পারবেন।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত:

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন যে সমুদ্র সৈকত রয়েছে সেটি হচ্ছে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আর কক্সবাজারের মূল সড়ক হতে 86 কিলোমিটার দূরত্বে টেকনাফ অবস্থিত। 

আর এই টেকনাফে রয়েছে জেলেদের আনাগোনা। কারণ সকাল এবং সন্ধ্যায় জেলেরা বেশি মাছ ধরে থাকে এই সমুদ্র সৈকতে। আর তাদের নৌকা বাহারি রঙের। টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের পাশেই রয়েছে শ্যামলপুর সমুদ্র সৈকত।

সোনাদিয়া দ্বীপ:

ম্যানগ্রোভ এবং উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত নয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই সুন্দর সোনালী দ্বীপ। স্থানীয় ভাষায় সুন্দর সোনাদিয়া দ্বীপকে সোনাদিয়া চর বলা হয়।আর এই সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার এর মূল শহর থেকে প্রায় 15 কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত।

এই দ্বীপটি যাযাবর পাখিদের জন্য বিখ্যাত। এই দ্বীপে শুষ্ক সময় প্রচুর পরিমাণে মাছ শুকানো হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এই মাছ গুলোকে সুদকে বানিয়ে বিক্রি করা হয়। তাছাড়া এই দ্বীপের সাগরের নীল পানি, লাল কাঁকড়া, কেয়া-বন এবং সামুদ্রিক পাখি সম্মিলিত হয়ে এক রোমাঞ্চকর অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি হয়।

মহেশখালী দ্বীপ:

কক্সবাজার শহর হচ্ছে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহেশখালী দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। আর এই দ্বীপটি হচ্ছে লবণ এবং পান ব্যবসায়ের প্রধান কেন্দ্র। পান চাষ হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যবাহী পেশা বা ব্যবসা।

এছাড়াও আপনার আইডিতে দেখতে পাবেন সামুদ্রিক মাছ এবং সেই মাছ প্রক্রিয়াজাত করে শুটকি বানানোর নানান শিল্প। আর এখানকার শুটকি দেশ-বিদেশে ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যায়।

তবে মহেশখালী দ্বীপের দর্শনীয় স্থান রয়েছে আর সেগুলো হচ্ছে- আদিনাথ মন্দির,  বৌদ্ধ মন্দির,  রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ মন্দির, আদিনাথ গোরকঘাটা জেটি, লবণ মাঠ, উপজেলা পরিষদ দীঘি, সোনাদিয়া দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত, হাঁসের চর, চরপাড়া সী-বিচ, মৈনাক পাহাড়, প্যারাবন, চিংড়ী ঘের ইত্যাদি

রামু রাবার বাগান:

আপনারা যারা ছোট-বড় পাহাড়, টিলা এবং বিস্তৃত সমতলে সারি সারি রাবার গাছ দেখতে চান তারা রামু রাবার বাগান পরিদর্শন করতে পারেন। যেখানে সারি সারি রাবার গাছের সবুজের হাতছানি রয়েছে। আর এটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে রামু রাবার বাগান অবস্থান করেছে।

বাগানের এই দৃশ্য একটি দৃষ্টিনন্দন বিশ্রামাগার। আপনারা চাইলে এখানে পিকনিক এবং বনভোজনের আয়োজন করতে পারেন। তাছাড়া এখানে ফুটবল, ক্রিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের খেলার সুবিধা রয়েছে। যেহেতু রাবার গাছ সব স্থানে পাওয়া যায় না শুধু আপনারাই রাবার বাগানে আসলে চেনা-অচেনা অনেক কিছু সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

তাছাড়া আপনারা এখানে সরাসরি রাবার কিভাবে তৈরি করে এবং রাবারের কোষ কিভাবে সংগ্রহ করা হয় তা দেখতে পাবেন। 

উপসংহার: আশা করছি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা আমার আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে আপনারা পেয়ে গেছেন। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে খুঁটিনাটি যত বিষয় রয়েছে সবকিছু আপনাদের সাথে শেয়ার করার। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত শুধুমাত্র একটি মাত্র সৈকতই নয় এখানে রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি ঘোরার জায়গা। আপনি ইচ্ছা করলে চাইলেই একদিনে সব জায়গা ঘুরে আসতে পারবেন না। কক্সবাজারের সবকিছু ঘুরে শেষ করার জন্য আপনাকে মিনিমাম এক সপ্তাহ হাতে সময় নিয়ে সেখানে যেতে হবে। 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

sex videos
pornvideos
xxx sex